ঢাকাFriday , 25 September 2026
  • আজকের সর্বশেষ সবখবর

    লক্ষ্মীপুরে মৃধা বাড়িতে গভীর রাতে মেজো ভাইয়ের ঘরে ছোট ভাইয়ের হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

    admin
    September 25, 2026 1:49 pm । ১০২ জন
    Link Copied!

    1. লক্ষ্মীপুরে গভীর রাতে মেজো ভাইয়ের বাড়িতে ছোট ভাইয়ের হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

    লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:রাকিব হোসেন

    গভীর রাতে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাকা দেয়াল ও টিন ভাঙচুর এবং বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত হামলা কারী ১ ভাই ও ৩ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন চৌধুরী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন নামের এক বৃদ্ধের ওয়ারিশ কতৃক মালিকানা সম্পত্তির জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে তার আপন নিজ ১ভাই ভাতিজারা। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কার্যালয়ের যোগাযোগ করে এবং মোবাইল নাম্বরে কল করে ঘটনার বিস্তারিত জানালে আমাদের এপ্রতিবেদক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুর ও আহত এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ হামলা কারীদের বিরুদ্ধে সংবাদের মাধ্যমে তুলে ধরতে চায়। পরে ভুক্তভোগির অনুরোধে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগ ঘটনা সত্য।এ ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ২ নং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নন্দনপুর এলাকার মৃধা বাড়িতে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই আজিজ উল্যার নেতৃত্বে তার ছেলেরা সহ ভাতিজা পলাশ মিলে মেজো ভাইয়ের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্ত ভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী। এ ঘটনায় তিনি ৫জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার আওতায়ধীন নন্দনপুর মৌজার আরএস নামজারি খতিয়ান-১৪৭৯৮-এর আরএস ১৩১৭খতিয়ান ভুক্ত ২৪৯৩ দাগ ১৬টি দাগে ১একর৭১ শতক জমির মধ্যে ৩৩ শতক জমি ২০২৫ সালে নামজারি করেন ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী। এরপর থেকে মহি উদ্দিন ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।

    মহি উদ্দিন এর অভিযোগ, জমিটি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমার আপন ছোট ভাই আজিজ উল্যার নেতৃত্বে  মৃত বড় ভাইয়ের ছেলে ফেরদৌস ও ছোট ভাই আজিজ উল্যা লাতু তার নিজের ছেলে অন্তর ও পলাশ কে নিয়ে হামলা করে। ছোট ভাইয়ের ছেলে ভাতিজা অন্তর, তামিম, সামছুল আরেফিন ফেরদৌস মিলে তারা ৫জন লোহার রড,শাবল, কুড়াল ও হাতুড়ি নিয়ে বাড়ির টিন দেওয়া বাউন্ডারি কুপিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে নির্মাণাধীন বাড়ির চারপাশের পাকা দেয়াল ভাঙচুর করে এবং চতুর দিকে বাউন্ডারি দেওয়া টিন কুপিয়ে ভাংচুর করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৫০হাজার টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে যাহা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

    ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী এর স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন,আমার শ্বশুর মৃত মরহুম আশ্বাদ উল্যা চৌধুরীর পুত্র তার স্বামী মহি উদ্দিন চৌধুরী ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির মালিকানার মধ্যে বসতবাড়ি ঘর নির্মাণ কাজ করেছে,তিনি আরো বলেন আমরা সেই ঘরে ছিলাম হঠাৎ রাত ৩ ঘটিকার সময় ২০ থেকে ২৫ জন দলবদ্ধভাবে এসে কোন কথা ছাড়া আমাদের বাউন্ডারি ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে আমার স্বামী ও আমাকে এবং আমার মেয়ে কে নিয়ে টানা হিসরা করে গায়ের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে এবং তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এতে করে আমার মেয়ের হাতের তিনটি আঙ্গুল কেটে যায় এবং আমার পায়ে আঘাত পাই। আমার স্বামী নিরুপায় হয়ে ট্রিপল নাইনে কল করিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভাঙচুরের ঘটনা দেখতে পান এবং হামলাকারীরা পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।পরে এলাকার স্থানীয়রা আমাদের শোর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে কর্মরত চিকিৎসক আমাদের তিনজনকে চিকিৎসা দেন। যাহার রেজিষ্ট্রেশন নং- ৭৯৯২/৩ মেয়ে ফারজানা আক্তার ৭৯৯১/২ স্বামী মহি উদ্দিন চৌধুরী ৭৯৯৩/৪ তারিখ ২০/০৯/২০২৬ইং রোজ রবিবার।

    মেয়ে ফারজানা আক্তার বলেন,আমার বিয়ের পর থেকে আমার শ্বশুরবাড়ির স্বজনদেরকে একটা দিনও দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পারিনি আমাদের সেই পরিস্থিতি আমাদের চাচারা ও চাচাতো ভাইরা রাখেনি। আমার দাদা মৃত মহরম আশ্বাদ উল্লা চৌধুরী যদি জেঠা ও চাচাদেরকে জন্ম দিয়ে থাকেন, তাহলে আমার বাবা উড়ে আসেনি, আমার দাদার দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে আমার বাবা বৃদ্ধ মহি উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু সেই হিসাবে আমার চাচারা আমার বাবার অংশীদার ওয়ারিশি সম্পত্তি বাড়ির সকল জায়গায় তারা জবরদখল করে রেখেছে। আমরা ভাড়া বাসাতে আর কত বছর থাকবো,আমাদের যুগ পার করেছি। বর্তমানে আমাদের ছেলে মেয়েরা বড় হচ্ছে, এরা বড় হলে নানার বাড়ি খুঁজবে, আমি কি জবাব দেব। আমরা প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার চাই। তিনি আরো বলেন আমাদের মামলার এজাহার সূত্রে ১ নং আসামি আমার চাচাতো ভাই অন্তর হোসেন (২৪)সু- কৌশলে আমার গলায় থাকা ১ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছে ।যাহার বর্তমান বাজার মূল্য ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এঘটনায় আমার চাচা আজিজ উল্যা চৌধুরী( লাতু)   তার দুই ছেলে অন্তর ও পলাশ ও অন্তরের বন্ধু তামিম এবং জেঠা মৃত মহসীন চৌধুরীর ছেলে ফেরদৌস কে নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। চাচাতো ভাই অন্তর, সামছুল আরেফিন ফেরদৌস, এবং চাচাতো ভাই তামিম ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।

    ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন চৌধুরী পুত্র জহিরুল ইসলাম রাজু সাংবাদিকদের বলেন,আমি ঢাকায় ছোটখাটো একটি চাকরি করি বাবা ও মা বোনকে আমার চাচা এবং চাচাতো ভাইরা দলবদ্ধ হয়ে মারপিট ও আমাদের ঘর ভাঙচুর করেছে। আমার মা বোন বাবাকে মেরে রক্তাক্ত করে জখম করেছে সংবাদ পেয়ে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি এসে দেখি বাড়ি ঘর আর নেই।চাচাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে চাচা তেলে বেগুনে আগুন, আমাকে মারিবে কাটিবে এমনকি প্রানে হত্যা করবে,আমার লাশ গুম করবে, আমাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিবে বলে হুমকি ধমকি প্রদান করে। তিনি আরো বলেন, আমরা এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই দাদা মারা যাওয়ার পর থেকে বাবা আমাদেরকে নিয়ে আমাদের বাড়ির পাশে একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া থেকেছি। আমাদের চাচারা আমাদেরকে বাড়িতে জায়গা দিচ্ছে না এমনকি আমাদের বাবার পৈত্রিক সম্পত্তিতে ঘর করতে দিচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছি, আইনের মাধ্যমে আমরা যেন সুবিচার পাই।

    ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী বলেন,আমার চাচা শ্বশুর ও জ্যাঠাশ্বশুর এবং আমার চাচাতো দেবররা এভাবে বৃদ্ধ মানুষকে একা ঘরের ভিতরে মারধর করা ঠিক হয়নি। পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী কায়দা করে হত্যার উদ্দেশ্যে ছিলো। তবে ভুক্তভোগী মহিউদ্দিনের অভিযোগসূত্রে অভিযুক্তকারী তার আপন নিজ ভাই আজিজ উল্লাহ চৌধুরী লাতু ও মহোসিন, পলাশ এবং ভাতিজা অন্তরসহ সকলের নিকট গিয়ে সকলের উপস্থিতিতে বক্তব্য চাইলে তারা সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে আসতে অনিহা প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিক কে নিষেধ করে বলেন,এটা আমাদের পারিবারিক ব্যাপার এখানে সংবাদ করার কিছু নেই।আমাদের এপ্রতিবেদক কে হুমকি ধমকি দিয়ে বলে আপনার মত আমাদের হাজার হাজার সাংবাদিক আছে। আপনি সংবাদ করলে আপনাকে দেখে নিব বলে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন অভিযুক্তকারী আজিজ উল্যা চৌধুরী লাতু।

    লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আসামীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী এজাহার দাখিল করলে তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।