ঢাকাThursday , 3 September 2026
  • আজকের সর্বশেষ সবখবর

    ৪৩ বছরের জনতা,২৩ বছরের আমি প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও পথচলা “জাহাঙ্গীর খান বাবু”

    admin
    September 3, 2026 4:19 am । ৬৩ জন
    Link Copied!

    “জাহাঙ্গীর খান বাবু”মফস্বল সম্পাদক দৈনিক জনতা

    সংবা ধারা- একটি সংবাদপত্রের ইতিহাস কেবল সম্পাদক, প্রকাশক কিংবা ছাপাখানার ইতিহাস নয়। এটি হাজারো সংবাদ, অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস, নির্ঘুম রাত আর সত্য অনুসন্ধানে নিবেদিত সংবাদকর্মীদের সম্মিলিত পথচলার ইতিহাস। সেই ইতিহাসেরই একটি গর্বিত নাম ‘দৈনিক জনতা। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, গণআন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক উত্থান-পতন, মানুষের সুখ-দুঃখ সবকিছুর নির্ভরযোগ্য দলিল হয়ে পাঠকের পাশে রয়েছে এই পত্রিকা।

    দৈনিক জনতা ৪৩ বছরে পদার্পণ করেছে। এই গৌরবের মুহূর্তে ফিরে তাকালে মনে হয়, গত ২৩ বছরে আমার নিজের জীবনও যেন এই পত্রিকার ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। একজন জেলা প্রতিনিধি হিসেবে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ বিশেষ প্রতিনিধি ও মফস্বল ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপলব্ধি করি দৈনিক জনতা আমাকে শুধু একটি পরিচয় দেয়নি। দিয়েছে দায়িত্ববোধ, সাহস, পেশাদারিত্ব এবং মানুষের আস্থা অর্জনের শিক্ষা।

    সময়ের সঙ্গে বদলেছে সাংবাদিকতা। বদলেছে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমও। সীসার পরে ছাপা সংবাদপত্র আজ ডিজিটাল প্রযুক্তির গতিময় জগতে প্রবেশ করেছে। দৈনিক জনতাও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট, ই-পেপার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাতাগী পাঠকের কাজেও প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে জনতার সংবাদ। সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীনের নেতৃত্বে পত্রিকার প্রতিটি বিভাগে এসেছে নতুন গতি, নতুন চিন্তা এবং আধুনিক সাংবাদিকতার এক প্রাণবন্ত আবহ।

    ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে আমাকে মফস্বল ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেই বারবার ফিরে যাচ্ছি স্মৃতির ভাঁজে। মনে পড়ছে ২০০৩ সালের সেই সকালটির কথা, যেদিন একটি জীবনবৃত্তান্ত হাতে নিয়ে প্রথমবারের মতো মতিঝিলে দৈনিক জনতার কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিলাম। তখন জানতাম না, সেই ছোট্ট পদপেই একদিন আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে দায়িত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে আবেগময় সাংবাদিকতা-যাত্রার সূচনা হয়ে থাকবে।

    তবে দৈনিক জনতার সঙ্গে আমার পরিচয় তারও বহু আগে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে ঢাকায় এলে যাত্রীছাউনির বড় বড় বিজ্ঞাপনফলকে চোখে পড়ত ‘দৈনিক জনতা’ নামটি। পরে আমাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাবা নিয়মিত এই পত্রিকা রাখতেন। প্রতিদিন কৌতূহল নিয়ে পড়তাম সংবাদগুলো। কখনো ভাবিনি, একদিন এই পত্রিকার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে যাবে আমার নিজের পরিচয়।

    ২০০৩ সালে একদিন চোখে পড়ল দৈনিক জনতার জেলা প্রতিনিধি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। মুন্সীগঞ্জ জেলার জন্য প্রতিনিধি চাওয়া হয়েছে। তখন আমি লন্ডনভিত্তিক চ্যানেল এস-এর মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। সাংবাদিকতা তখন আমার স্বপ্ন, নেশা এবং ভবিষ্যতের ঠিকানা। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করেই একদিন জীবন বৃত্তান্ত হাতে ঢাকায় এলাম।

    দৈনিক জনতার অফিসে ঢুকেই প্রথম পরিচয় হয় জেনারেল ম্যানেজার বিশু কুমার দাসের সঙ্গে। কিছুণ কথা বলেই তিনি বুঝতে চাইলেন, আমি কতটা কাজ করতে প্রস্তুত। সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও সংগ্রহ করতে হবে এ কথা শুনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করিনি। কারণ তখনই বিশ্বাস করতাম, একজন সংবাদকর্মীর জন্য কোনো কাজই ছোট নয়, যদি তা প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

    কিছুণ পর তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন প্রকাশক সৈয়দ এম. আনোয়ার হোসেনের কক্ষে। প্রথম সাক্ষাতেই তাঁর আন্তরিকতা আমাকে মুদ্ধ করেছিল। নানরুটি আর গ্রিল দিয়ে আপ্যায়নের পর তিনি আমার হাতে তুলে দিলেন ছয় মাসের অস্থায়ী নিয়োগপত্র। সেই কাগজটি ছিল শুধু একটি নিয়োগপত্র নয় আমার সাংবাদিকতা জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রথম পৃষ্ঠা।

    সেদিন অফিস থেকে বেরিয়ে মতিঝিলের ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, আমার সামনে যেন এক নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে গেছে। জানতাম না ভবিষ্যতে কত ঝুঁকি, কত সংগ্রাম, কত নির্ঘুম রাত, কত আলোচিত প্রতিবেদন, কত প্রিয় সহকর্মীর বিদায় আর কত ইতিহাসের স্বাক্ষি হতে হবে। শুধু জানতাম আমি এখন দৈনিক জনতার একজন সংবাদকর্মী। আর সেই পরিচয়ই হয়ে উঠবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব।

    মুন্সীগঞ্জ ঢাকার পাশের জেলা হওয়ায় প্রায়ই দৈনিক জনতার কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার সুযোগ হতো। তখনকার সাংবাদিকতা ছিল আজকের মতো প্রযুক্তিনির্ভর নয়। মোবাইল ইন্টারনেট, ই-মেইল কিংবা অনলাইন নিউজ আপলোডের সুবিধা তখনও আমাদের কর্মজীবনের অংশ হয়ে ওঠেনি। ফ্যাক্স মেশিনই ছিল সংবাদ পাঠানোর প্রধান ভরসা। অনেক সময় ছবিসহ প্রতিবেদন খামে ভরে রেজিস্ট্রি ডাকে ঢাকায় পাঠাতে হতো।

    পরদিন সকালে পত্রিকার পাতায় নিজের নামে প্রকাশিত সংবাদ দেখার যে আনন্দ, তা আজও ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই অনুভূতিই প্রতিদিন আরও ভালো সংবাদ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।