অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
নুসরাত জাহান শিমু(রায়পুর প্রতিনিধি) - বর্তমান প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আর এই অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন গেম, বিনোদনমূলক ভিডিও, এবং পর্নোগ্রাফিতে অধিক মাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় অমনোযোগ, ঘুমের সময় কমে যাওয়া, খেলাধুলায় অনাগ্রহ এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানোর আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফলে শারীরিক, মানসিক উভয় দিক থেকে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দিন দিন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ জোনাকি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা উচিত। তবে বিনোদন ও গেমের জন্য অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখতে শিক্ষকরা যথাসম্ভব নজরদারি করবে।
একই সাথে উক্ত জোনাকি আইডিয়াল স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, বর্তমানে অনলাইন ক্লাস ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। তাই মোবাইল ফোন পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এবং শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া বেশি কার্যকর। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাতে ঘুমানোর সময় বেশির ভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা বালিশের পাশেই মোবাইল রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে করে রেডিয়শনের কারণে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ফলে বদমেজাজি অবস্থা,আচরন খারাপ হওয়া, নির্ঘুম দিন কাটানো সহ অন্যান্য আরো ক্ষতিকর দিক তৈরি হতে পারে। তাই রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি অন্তত ছয় ফুট দূরে রাখা আবশ্যক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে পরিমিত, দায়িত্বশীল ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারে ভারসাম্য রাখতে হবে। এবং শিক্ষার্থীদের সুন্দর ,উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সকল অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা জরুরী।